শাশ্বত বাংলা ও রংপুরের ঐতিহ্য
শাশ্বত বাংলা
বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস জানতে হলে শাশ্বত
বাংলা একটি অন্যতম মাধ্যম। অতীতের ঐতিহ্য, সুখ-দুঃখ, ত্যাগ-তিতিক্ষা, মুক্তি, আন্দোলন
প্রভৃতি বিষয় সম্বন্ধে সহজেই অনুধাবন করা যায় শাশ্বত বাংলার মাধ্যমে। প্রাচীন বাংলার
ইতিহাস থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছেষট্টির
ছয় দফা দাবি, ঊনসত্তরের গন অভ্যূত্থান, সত্তরের নির্বাচন, সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ
ও সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনীর বর্বরতা ও নৃশংস গনহত্যা ঘটনা প্রবাহ
প্রভৃতি সম্পর্কিত খুটিনাটি বিষয় তথ্য চিত্র এই শাশ্বত বাংলায়
পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু অস্ত্রের পরিচয় যা পাকিস্তানি বাহিনী ও মুক্তি
বাহিনী ব্যবহার করত তা সম্পর্কে জানা যায়। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত যেসকল
যন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরা ব্যবহার করত তা সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়াও এর মধ্যে অবস্থিত
মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ ইতিহাস
নতুন প্রজন্মের নিকট তুলে ধরা হয়।
অবস্থানঃ
রংপুর সেনানিবাসের সম্মুখস্থ চৌরাস্থা থেকে
অর্ধ কিলোমিটার দূরে ধাপ কটকী পাড়া রোডে এই জাদুঘর অবস্থিত। এর অর্ধ কিলোমিটার পূর্বে
ডিসি মোর, অর্ধ কিলোমিটার পশ্চিমে রংপুর সেনানিবাস (চেকপোস্ট), সম্মুখে অবস্থিত সরকারি
টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং পাশেই লালকুঠি অবস্থিত।
যাতায়ত
মাধ্যমঃ
রংপুরের যেকোন স্থান থেকে রিক্সা, অটোরিক্সা,
প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস প্রভৃতি যানবাহনের মাধ্যমে যাওয়া যায়।
"শাশ্বত
বাংলা" নাম করণঃ
শাশ্বত শব্দের অর্থ আবাহমান বা চিরন্তন, সুতরাং
শাশ্বত বাংলা বলতে আবহমান বাংলা বা চিরন্তন বাংলাকে বুঝায়। অর্থাৎ বাংলার আবাহমান পরিবেশে
বিভিন্ন কাল পরিক্রমার ইতিহাস ঐতিহ্য, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সম্পূর্ণ তথ্য চিত্র এই স্থানে সংরক্ষিত আছে বলে এর নাম করণ
করা হয়েছে শাশ্বত বাংলা। এটি একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। চলবে...........
সহায়ক
তথ্যসমূহঃ
I.
লেঃ
কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,(স্বাধীনতার ইতিহাস)। প্রকাশকঃ (সেবা পাবলিশার্স, মহাখালী জেল গেইট ঢাকা)।
II.
সিদ্দিক
মালিক, নিয়াজীর আত্মসমর্পণের দলিল। প্রকাশকঃ (নভেল পাবলিকেশন্স, ১৩৭, শান্তিনগর ঢাকা)।
III.
ড.
মোহাম্মদ হান্নান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাস। প্রকাশকঃ (মোহাম্মদ
লিয়াকত উল্লাহ, বাংলাবাজার ঢাকা-১১০০)
IV.
মুনতাসীর মামুন, একাত্তরের বিজয়গাঁথা। প্রকাশকঃ
(ওসমান গনি, ৩৬, বাংলাবাজার ঢাকা-১১০০)।
V.
সাহিদা
বেগম, যুদ্ধে যুদ্ধে নয় মাস। প্রকাশকঃ (মফিজুল হক, ৫১ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১১০০)।
VI.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
দলিল পত্র, পঞ্চম খন্ড। প্রকাশকঃ
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের পক্ষে হাফিজুর
রহমান, ৮১/বি, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-২)।
VII.
মেজর
রফিকুল ইসলাম পি এস সি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ,
ঐতিহাসিক ভাষন ইসতেহার ও চিঠি।
(প্রকাশকাল, ফাল্গুন ১৪০৩/মার্চ ১৯৯৭)।
VIII.
সুকুমার
বিশ্বাস, বাংলাদেশঃ মুক্তিযুদ্ধের ভূগোল ইতিহাস। প্রকাশকঃ (ওসমান গনি, আগামী প্রকাশনী, ৩৬ বাংলাবাজার ঢাকা-১১০০)।
IX.
এম.
আর. আখতার মুকুল, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা। প্রকাশকঃ (ওসমান গনি, ৩৬ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০)
X.
মহসীন
উদ্দিন আহমেদ, যুদ্ধের স্মৃতি। প্রকাশকঃ (আগামী প্রকাশনী ৩৬ বাংলাবাজার,
ঢাকা-১১০০)।
XI.
দৈনিক সংবাদ। ২১ জানুয়ারী ১৯৬৯।
good job
ReplyDelete